বিবিধ

পুঠিয়া উপজেলার পচামাড়িয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিবাহিত জোড় বট-পাইকড় গাছ

রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলাধীন ০৫ নং শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র পচামাড়িয়া গ্রামের পচামাড়িয়া ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন পাকা রাস্তার ধারে কালের স্বাক্ষী হয়ে অবিচল দাঁড়িয়ে আছে ২০০ বছরের প্রাচীন বয়োবৃদ্ধ জোড় বিবাহিত বট-পাইকড় গাছ। কথিত আছে হিন্দু রীতি-নীতি মোতাবেক অতীতের কোন এক সময়ে ঢাক-ঢোল-সানাই বাজিয়ে আড়ম্বরের সাথে পচামাড়িয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জোড় বট-পাইকড় গাছের বিয়ে দেয়া হয়। আরো কথিত আছে ঐতিহ্যবাহী এ জোড় বট-পাইকড় গাছের ছাঁয়ায় কোন এক সময় একজন মহাপ্রাণ সন্যাস ঠাকুরের আবির্ভাব ঘটে এবং পুরাকালে ঈশ্বরের মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে আগত মহাপ্রাণ সন্যাস ঠাকুরের অসীম কৃপায় এখান থেকে অনেকে রোগ-শোক এবং দুরারোগ্য ব্যাধী থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে। যার কারণে এখনও অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ মনের কামনা বাসনা পূরণ করার মানসে এখানে আসে এবং কায়মনোবাক্যে পূজার্ঘ্য নিবেদন করে থাকেন। তখন থেকেই হিন্দু মতাদর্শে বিশ্বাসীরা এ জোড় বট-পাইকড় গাছকে দেবতা জ্ঞানে মান্য করে প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিতে সাড়ম্বরে ফুল বাঁধে এবং পূজার্চনা করে। ঐতিহ্যবাহী এ জোড় বট-পাইকড় গাছকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দোল, দুর্গা ও লক্ষী মন্দির। ঐতিহ্যবাহী এ জোড় বট-পাইকড় গাছ এবং মন্দিরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন ০২ দিন ব্যাপী পৌষ সংক্রান্তির মিলন মেলা। ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্বল দৃষ্টান্ত এ ঐতিহ্যবাহী পোষ মেলা। ১৯৭১ সালে যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আত্ম রক্ষার্থে ভারতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে, সে বছরও স্থানীয় মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন ঐতিহ্যবাহী এ পোষ মেলার আয়োজন করেছিল। এখনও ঐতিহ্যবাহী এ পৌষ মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্ব্বিশেষে সর্বস্তরের নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। প্রচারণাবিহীন এ মেলার আনুষ্ঠানিক স্থায়িত্ব ০২ দিনের হলেও তা অলিখিতভাবে সাত বা দশ দিনে গিয়ে গড়ায়। মেলায় লোহা-কাঠের আসবাবপত্র ছাড়াও দেশীয় সংস্কৃতির সাথে মানানসই বিভিন্ন পন্য সামগ্রীর আগমন ঘটে। তা ছাড়াও দেশীয় সংস্কৃতির সাথে মানানসই বিভিন্ন খেলাধুলা, ধর্মীয় পদাবলী, পালাগান বা নারী বর্জিত গ্রাম্য যাত্রপালা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এলাকার সকল সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতে এ সময় আতœীয়-স্বজনে ভরে যায়। বাড়িতে বাড়িতে পৌষের বিভিন্ন পিঠা-পায়েস ও মিঠাই-মিষ্টান্ন তৈরীর ধুম পড়ে যায়।

পাকা রাস্তার ধারে অযতœ আর অবহেলায় কালের স্বাক্ষী হয়ে অবিচল দাঁড়িয়ে থাকা জোড় বট-পাইকড় গাছটি প্রায় ২০০ বছর ধরে মানুষ ও পশু-পাখিদেরকে অকাতরে শীতল ছাঁয়া বিলিয়ে দিচ্ছে। পথচারীকে রাস্তা পার হতে দেখলে গাছটি নিরবে-নিভৃতে মনে মনে বলে উঠে “দাঁড়াও পথিক বর, জন্ম যদি বঙ্গে তব তিষ্ঠ ক্ষণকাল”। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এমন প্রাচীন গাছের জুরি মেলা ভার।

(বিষ্ণু পদ সাহা)

অধ্যক্ষ
পচামাড়িয়া ডিগ্রী কলেজ
পচামাড়িয়া, পুঠিয়া, রাজশাহী-৬২৬০
মোবাইল নং ০১৭১৫-০০৮৩৫১, ই-মেইলঃ pdcollege09@yahoo.com

পুঠিয়া উপজেলার পচামাড়িয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাখি অভয়াশ্রম

রাজশাহী জেলার পঠিয়া উপজেলাধীন ০৫ নং শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র পচামাড়িয়া গ্রামের পচামাড়িয়া স্কুল মাঠের পূর্ব পার্শ্বে পুকুর-বাঁশবাগান এবং ঘন গাছপালাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দেশী বিদেশী পাখির অভয়াশ্রম। পচামাড়িয়া গ্রামের অবস্থান- ঢাকা থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে এবং রাজশাহী থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে। এর আন্তর্জাতিক সীমারেখা ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণ(ইন্ডিয়াসহ)। ৮৮ ডিগ্রী ৫২.৭২২’(east longitude) এবং ২৪ ডিগ্রী ২৯.০১’(north longitude), জমির পরিমানঃ ৫০০ একর(প্রায়) । সারা বছর এ অভয়াশ্রমকে কেন্দ্র করে কিছু দেশী পাখি স্থায়ীভাবে বাসা বাধলেও শীতের শুরুতে নভেম্বর মাসে বিদেশী অতিথি পাখির আগমন ঘটলে পাখির কলোকাকলিতে পচামাড়িয়া গ্রাম মুখরিত হয়ে উঠে। দেশী প্রজাতির পাখির মধ্যে রয়েছে দাঁড়কাক, বাদুর, শালিক, ফিঙ্গে, বাবুই, ঘুঘু, কবুতর, বক, কানা বক, মাঝারী বক, নিশিবক, বড় সাদা বক, ছোট সাদা বক, গোবক, কাপাশী, পানকৌরী, হলদে পাখি, বসন্ত বাউরী, শালিক, মাছরাঙ্গা, ওকসা, সুঁইচোরা, ফটিকজল, হাঁড়িচাঁচা, ডাহুক, সাতভাইয়া, দোয়েল, নিলটুনি, মৌটুসি, ফুলঝুড়ি, টুনটুািন, বুলবুলি, রাতচোড়া, কাঠ ঠোকরা, কানকোয়া, কোকিল, চোখগেল পাখি, বউ কথা কও, পেঁচা, লেজনাচানী, তুলিকা, হুট্টি, জলপিপি, কাদাখোচা অন্যতম। বিদেশী প্রজাতির অতিথি পাখির মধ্যে রয়েছে শামুখ ভাঙ্গা, কাস্তেচোরা, বৃহৎ পান কৌড়ি, ছোট পানকৌড়ি, সাপা পাখি, ধুসর খঞ্জনী, সাদা খঞ্জনী অন্যতম। ২০০৯, ২০১০ সালে পচামাড়িয়া গ্রাম মূলত পাখির গ্রাম হিসাবে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করে। এর পর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক পাখি মেলা। ঐতিহ্যবাহী এ পাখি মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় যে, পাখিকে আর অভয়ারণ্যে থাকার সুযোগ দেয়া সম্ভব হয় না। কারণ পাখি প্রেমী সাধারণ মানুষ কোন বাধা নিষেধের পরোয়া না করেই বাগানের মধ্যে ঢুকে পড়ত।

স্থানীয় সচেনত জনগনের সহায়তার গড়ে উঠে স্বেচ্ছাসেবক দল। স্বেচ্ছাসেবক দলের লোকজন অতি দ্রুত সীমানা নির্ধারণী বেড়া তৈরী করেন। মানুষ স্রোতের মতো আসতে থাকে পাখি দেখার জন্য। এর পর আর বিষয়টি ছোট কলেবরে থেমে থাকেনি। এসে যায় দেশের সরকারী-বেসরকারী প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার লোকজন। দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক সোনালী সংবাদসহ আনেক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রথম পাতায় উঠে আসে পচামাড়িয়া গ্রামের পাখির অভয়াশ্রমের এবং পাখি মেলার খবর। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারী স্যাটেলাইট টেলিভিশনের লোকজনও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে প্রচার করে। আগত নারী পুরুষ দর্শনার্থীদের নিরাপদে পাখি দেখার জন্য পচামাড়িয়া স্কুল মাঠে এবং পচামাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়ের দোতলা বাসার ছাদের উপর দূরবীক্ষণ যন্ত্র বসিয়ে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার তৈরী করা হয়। এর পর অতিথি পাখি দেখা ও গবেষণা কাজের জন্য আসতে শুরু করেন দুবাই চিড়িয়াখানার কিউরেটরসহ অনেক নামী-দামী স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক। পচামাড়িয়া গ্রামের পাখিদেরকে কেন্দ্র করে পাখি লালন-পালন ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ বিষয়ে শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ একাধিক রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভ করে।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, প্রয়োজনীয় সরকারী উদ্যোগ, সহায়তা ও পৃষ্টপোষকতার অভাবে এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কিছু পুরাতন গাছপালা কর্তনের কারণে দেশী-বিদেশী সকল পাখিই অসহায়ত্ব বোধ করতে শুরু করে। এর পর শুরু হয় মড়ার উপর খাড়ার ঘা । প্রকৃতি শুরু করে বিরূপ আচরণ। পাখিরা না পায় তাদের জীবণ ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আহার, না পায় অনুকূল আবহাওয়া এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভয়ারণ্য। অতিথি পাখির আগমন কমতে শুরু করে। তবে পাখি নিয়ে এলাকার মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। এলাকার মানুষ কোন পাখি মারে না বা কাউকে পাখি মারতে দেয় না।

নিম্নে দেশী বিদেশী পাখির কিছু নমুনা চিত্র দেয়া হলঃ

[TS_VCSC_Lightbox_Gallery content_images=”1802,1807,1805,1806,1804,1803″ content_images_size=”medium” lightbox_size=”full” title_wrapper=”div” content_style=”Grid” content_linkstyle=”lightbox” trigger_grayscale=”false” fullwidth=”false” breakouts=”6″ data_grid_breaks=”240,480,720,960″ data_grid_space=”2″ data_grid_order=”false” data_grid_shuffle=”false” data_grid_limit=”0″ animation_in=”ts-viewport-css-flipInX” css3animations_in=”Flip In X” animation_out=”ts-viewport-css-slideOutDown” css3animations_out=”Slide Out Down” flex_animation=”slide” animation_mobile=”false” auto_height=”true” page_rtl=”false” flex_position=”bottom” flex_breaks_thumbs=”200,400,600,800,1000,1200,1400,1600,1800″ flex_breaks_single=”240,480,720,960,1280,1600,1980″ number_images=”1″ flex_margin=”0″ auto_play=”false” show_playpause=”true” show_bar=”true” bar_color=”#dd3333″ show_speed=”5000″ stop_hover=”true” show_navigation=”true” dot_navigation=”true” flex_border_width=”5″ flex_border_color=”#ffffff” flex_background=”#ffffff” nivo_effect=”random” nivo_slices=”15″ nivo_columns=”8″ nivo_rows=”4″ nivo_random=”false” nivo_start=”0″ polaroid_maxheight=”800″ polaroid_visible=”4″ polaroid_margin=”20″ polaroid_layout=”horizontalLeft” polaroid_alignment=”topcenter” polaroid_counter=”true” polaroid_position=”topright” polaroid_rotation=”true” filters_toggle=”Toggle Filter” filters_showall=”Show All” filters_available=”Available Groups” filters_selected=”Filtered Groups” filters_nogroups=”No Groups” lightbox_pageload=”false” thumbnail_position=”bottom” thumbnail_height=”100″ lightbox_effect=”random” lightbox_autooption=”false” lightbox_autoplay=”false” lightbox_speed=”5000″ lightbox_backlight=”auto” lightbox_backlight_color=”#ffffff” lightbox_social=”true” lightbox_nohashes=”true” flex_tooltipthumbs=”false” slice_tooltipthumbs=”none” tooltipster_position=”ts-simptip-position-top” tooltipster_offsetx=”0″ tooltipster_offsety=”0″ margin_top=”0″ margin_bottom=”0″ content_images_titles=”Asian Openbill Flying Fox and Cormorant on a bamboo clump (Bambusa sp.),Cormorant and Median egret sitting on bamboo clump (Bambusa sp.),Endangered Snake bird and Cormorant sitting on bamboo clump (Bambusa sp.) at Pochamaria.,Asian Openbill Great Egret and Yellow-wattled Lapwing are feeding together in one food source at Pochamaria.,The nest of Blue throated Barbet ,Indian Cormorant at nest “][/TS_VCSC_Lightbox_Gallery]
Pochamaria Degree College © 2015 Design and Developed by NatoreSoft